কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬ এ ১১:১৬ AM

গণমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য রোধে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

কন্টেন্ট: খবর প্রকাশের তারিখ: ০২-০৫-২০২৬ আর্কাইভ তারিখ: ৩০-০৬-২০২৬

ঢাকা, ২ মে ২০২৬ (শনিবার): প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর উদ্যোগে আজ বিকেলে পিআইবির সেমিনার কক্ষে ‘গণমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য: কে শিকার? কে শিকারি?’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউনেস্কোর হেড অফ অফিস ও বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ভাষা-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মামুন অর রশীদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “অপতথ্য ও গুজব ছড়ানো যে একটি অপরাধ, তা অনেক সময় আমরা উপলব্ধিই করি না। কোনো না কোনোভাবে আইনি পদক্ষেপ ছাড়া এটি রোধ করা সম্ভব নয়। তবে সমালোচনা ও গালি ভিন্ন বিষয়; সেগুলো ফেক নিউজ নয়। ফেক নিউজকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং এ বিষয়ে সরকারকে সুস্পষ্ট বার্তা দিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা যাবে, কিন্তু মিথ্যা তথ্য প্রচারের কোনো প্রয়োজন নেই। একটি গণতান্ত্রিক সরকার কখনোই গণমাধ্যমের সঙ্গে শত্রুতা করে উপকৃত হতে পারে না।”

মূল প্রবন্ধে মামুন অর রশীদ ফেক নিউজের বিস্তার, প্রভাব ও ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, ফেক নিউজ প্রতিরোধে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ও পেশাদার ফ্যাক্টচেকারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ অতিথি ড. সুসান ভাইজ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় কার্যকর ফ্যাক্ট-চেকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা, সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, মিডিয়া সাক্ষরতা বৃদ্ধি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যালগরিদম সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ-আল মামুন বলেন, “ডিসইনফরমেশন শুধু ব্যবসায়িক কারণে নয়, এটি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক হাতিয়ারও। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই এর শিকার হন, আবার তারাই অন্যকে শিকার বানান।”

দ্য ডিসেন্ট-এর সম্পাদক ও ফ্যাক্টচেক বিশেষজ্ঞ কদরুদ্দীন শিশির বলেন, “ফেক নিউজকে সমর্থন করার কোনো সুযোগ নেই। অনেক গণমাধ্যমে ভুল তথ্য প্রকাশিত হলেও তা সংশোধন বা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দায়বদ্ধতা দেখা যায় না।”

সেমিনারে আরও অংশগ্রহণ করেন দৈনিক সমকালের সিনিয়র সাংবাদিক রাজীব আহমেদ, সাংবাদিক ও শিক্ষক নাজিয়া আফরিন মনামী, ঢাকা পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল ইসলাম, গবেষক ও ফ্যাক্টচেকার মিনহাজ আমান, আজহার উদ্দিন অনিকসহ অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মী ও গবেষকরা।

সঞ্চালনা করেন পিআইবির প্রশিক্ষক সাহানোয়ার সাইদ শাহীন।

স্বাগত বক্তব্যে ফারুক ওয়াসিফ বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীদের পছন্দ-অপছন্দকে প্রভাবিত করে এক ধরনের ‘ডিজিটাল দাসত্ব’ তৈরি করছে। সীমিত সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি ও রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে মানুষ সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের বদলে নিজেদের মতের পক্ষে থাকা তথ্যকে বেশি গ্রহণ করছে। ফলে গণমাধ্যমের ওপর আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে।” তিনি এ সংকট মোকাবিলায় গণমাধ্যমের পুনর্গঠন, আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জ্ঞানভিত্তিক কাঠামো গড়ে তোলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে অধ্যাপক আ-আল মামুন ও কাজী মামুন হায়দারের লিখিত পিআইবির প্রকাশনা ‘বাংলাদেশে শিকারি সাংবাদিকতা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

বক্তারা গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে সরকার, গণমাধ্যম এবং জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মিডিয়া লিটারেসি অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

ফাইল ১
ফাইল ২
ফাইল ৩
ফাইল ৪
ফাইল ৫

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন